চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানা অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এর উৎপাদন কার্যক্রম ১৮ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে দেশের কৃষিখাতে সারের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কারখানার কর্তৃপক্ষ জানায়, সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সাধারণত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে এই দুই কারখানাই বন্ধ রয়েছে। ফলে ডিএপি সার কারখানায় কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ডিএপিএফসিএল-এর ব্যবস্থাপক আলমগীর জলিল জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে না। আর অ্যামোনিয়া না থাকলে ডিএপি সার উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব নয়। তাই আপাতত কারখানার সব উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ডিএপি সার কারখানাটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানায় দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ৮০০ টন। তবে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টন সার উৎপাদন হচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিএপি সার কারখানা বন্ধ থাকলে কৃষিতে সারের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন মৌসুমে কৃষকরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান হলে সিইউএফএল ও কাফকো আবার চালু হবে। তখন অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।