মস্তু মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আখাউড়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম রাকিবুল হাসান (৩০)। তিনি আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলার নুরপুর এলাকার আব্দু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আখাউড়া থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে রাকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিবুল হাসান আখাউড়া থানার মামলা নং-১৫/২৩৪, তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২৪-এর ৪৭ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলাটি দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং The Explosive Substances Act, 1908-এর ৩, ৫ ও ৬ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
আখাউড়ায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফের নির্দেশনা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিবের দিকনির্দেশনায় এবং আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহেদুল কাদের, এসআই (নিরস্ত্র) সুমন কান্তি দে, এসআই (নিরস্ত্র) পুষন সাহা, এসআই (নিরস্ত্র) পরিমল চন্দ্র দাসসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া আসামিকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদটি প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে অভিযোগের মুখোমুখি একজন আসামি হিসেবে বিবেচিত হবেন।