গোলাম মর্তুজা, পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধি:
আখ চাষে উৎপাদন বাড়ানো এবং উন্নত মানের আখ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আখের ফলন বৃদ্ধি ও রোগ-পোকা দমন অভিযান কার্যক্রম জোরদার করেছে জয়পুরহাট চিনিকল। কৃষকদের লাভজনক আখ চাষে উৎসাহিত করতে এবং ক্ষতিকর রোগ-পোকার আক্রমণ কমাতে সম্প্রতি দিনব্যাপী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জয়পুরহাট চিনিকলের কৃষি বিভাগের চরকাই সাবজোনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সাবজোন প্রধান গোলাম ফারুক হোসেন। অভিযানে অংশ নেন বিনোদনগর আখ কেন্দ্রের সিডিএ-সিআইসি সঞ্জয় কুমার সরকার, মধ্যপাড়া আখ কেন্দ্রের সিডিএ-সিআইসি রেজাউল করিম, কাঁচদহ আখ কেন্দ্রের সিডিএ-সিআইসি মেহেদী হাসান এবং মির্জাপুর আখ কেন্দ্রের সিডিএ-সিআইসি ধ্রুব চন্দ্র। এছাড়াও বিভিন্ন আখ কেন্দ্রের চুক্তিভিত্তিক (কানামুনা) কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন আখক্ষেত সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে আখের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। একই সঙ্গে চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে ক্ষতিকর রোগ ও পোকা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে দমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আখের স্মাট রোগ, সাদা পাতা রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকজনিত সমস্যা আখের উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি করে। এছাড়া ইএসবি, টিএসবি, আরএসবি, পিংক বোরার এবং শক্ত কাণ্ডের মাজরা পোকা (এসবি) আখের ফলন কমিয়ে দেয়। এসব রোগ ও পোকা দমনে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
সাবজোন প্রধান গোলাম ফারুক হোসেন বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং আখের ফলন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। রোগ ও পোকামুক্ত আখ উৎপাদনের জন্য রোগ-পোকা দমন অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও প্রতিটি আখ কেন্দ্রে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগ ও পোকামুক্ত আখ উৎপাদন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আখের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন। পাশাপাশি চিনিকলের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত আখ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আখের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব। জয়পুরহাট চিনিকলের এই উদ্যোগ স্থানীয় আখচাষিদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।