সোহান মিয়া, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ইদবারদী এলাকার একটি ডোবা থেকে দেড় বছর বয়সী মারজিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আড়াইহাজারে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার এই ঘটনায় শিশুটির পরিবার হত্যার অভিযোগ তুলেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
নিহত মারজিয়া স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেলে বাড়ির আঙিনায় খেলছিল মারজিয়া। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় স্থানীয়রা একটি শিশুর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আড়াইহাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাদের ধারণা, মারজিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। শিশুহত্যার অভিযোগ তুলে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, আড়াইহাজারে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার এবং শিশুহত্যার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।