নওগাঁর নিয়ামতপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে আলু চাষিদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ হয়ে উঠেছে। আলুর দাম কম এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় কৃষকদের এই সংকট দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আলু চাষে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে জমিতে পানি জমে যায়। এতে আলু পচে নষ্ট হয়ে যায়। আবার কোথাও শৈত্যপ্রবাহ ও অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া আলুর উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পাননি।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আলুর দাম কম থাকার সমস্যা। বাজারে আলুর সরবরাহ বেশি থাকলেও চাহিদা তুলনামূলক কম। ফলে দাম এতটাই কমে গেছে যে অনেক কৃষক তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। এতে করে আলু চাষিদের দুর্দশা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, কিন্তু এখন সেই ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করছেন, কারণ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কোল্ড স্টোরেজের অভাবে আলু দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব হয় না। এ সুযোগে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কম দামে আলু কিনে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এমপি বাসার বলেন, “এইভাবে যদি আলুর দাম কম থাকে, তাহলে কৃষকরা এক সময় সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে হলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা সমাধানে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আবহাওয়া সহনশীল কৃষি পদ্ধতি চালু করা দরকার।
সব মিলিয়ে, খারাপ আবহাওয়া ও কম দামের কারণে আলু চাষিদের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কৃষি খাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।