টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মইন (১৪)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের পাথারঘাট এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে যমুনা নদীতে গোসল করতে নামে মইন। গোসলের একপর্যায়ে সে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে আর খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়দের জানায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনার দিন বিকেল পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়েও মইনের কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপর শনিবার আবারও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাত দূরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান উদ্ধারকারী সদস্যরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত মইন টাঙ্গাইল সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নৌ পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বর্ষা মৌসুমে নদীতে গোসলের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নদীর স্রোত ও গভীরতা সম্পর্কে ধারণা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই শিশু-কিশোরদের নদীতে গোসলের সময় পরিবারের সদস্য বা অভিভাবকের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার-এর এই ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, অসতর্কভাবে নদীতে নামা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ নদীঘাটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।