গাজীপুর মহানগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের গজারিয়া পাড়ায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী মোঃ হযরত আলী (৪৫) জানান, উক্ত জমিটি তার নানা-নানী হিন্দু মালিকদের কাছ থেকে বৈধভাবে কিনেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছেন। হযরত আলী জানান, গত শনিবার (৪/৪/২০২৬) সকালে ৭০-৮০ জন বহিরাগত নেতা ও সমর্থক তার জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপস্থিত ছিলেন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক প্লান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন মহি এবং অগ্রযাত্রা বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলামসহ প্রায় ৭০-৮০ জন নেতা ও সমর্থক। হযরত আলীর বড় ভাবির সঙ্গে কথা বলার পর তারা চলে যান, তবে হুমকি দেন যে তারা পুনরায় এসে পিলার গেঁড়ে জমি দখল করবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জমির বৈধ মালিকানা যাচাই করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করারও দাবি তুলেছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের জমি বিরোধ এলাকায় নিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি সামাজিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হলে এলাকায় শান্তি ফিরবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে স্থানীয়রা আশাবাদী যে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনার পর গাজীপুরে জমি দখল সংক্রান্ত ইস্যু নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জমি বিরোধগুলো জটিল হয়ে উঠছে। তাই দ্রুত বৈধ মালিকানার প্রমাণ যাচাই এবং আইন প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।
গাজীপুর জমি বিরোধ এবং বিএনপি নেতাকর্মীর এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। আশা করা যাচ্ছে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে।