চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি এলাকায় মারসা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেপরোয়া গতিতে চলার সময় মারসা পরিবহনের দুটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর দুটি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নারী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা যান।
নিহত নারীর নাম রেহেনা বেগম (৬০)। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পাচুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের স্ত্রী। নিহত বাকি দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার ফিরোজ খান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহত একজনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় দুটি বাসই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ভয়াবহ এই চট্টগ্রাম বাস দুর্ঘটনা ঘিরে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে লোহাগাড়া ও চুনতি এলাকায় অতিরিক্ত গতির কারণে ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই লোহাগাড়া সড়ক দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।