এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামে সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই বছর পর মূল অভিযুক্ত ছেলে বেলাল হোসেন ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং এটি “চট্টগ্রাম হত্যা মামলা” হিসেবে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে নিজের জমি-জমা বিক্রি করছিলেন। এ অবস্থায় অবশিষ্ট সম্পত্তিও বিক্রির উদ্যোগ নিলে ক্ষুব্ধ হন তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া এবং বিক্রি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে বেলাল একটি ভয়ংকর ফাঁদ তৈরি করেন। তিনি প্রথমে জমির দালাল সেজে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং পরে এক নারী সহযোগীর মাধ্যমে তাকে প্রলোভিত করে চট্টগ্রাম নগরীতে ডেকে আনা হয়।
২০২৪ সালের ৭ জুন, নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় মীর মুজিবুর রহমান গেলে সেখানে তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত পান করিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে করে তাকে আউটার রিং রোড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেলাল ও তার সহযোগী আবদুল জলিল গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ পাশের জঙ্গলে ফেলে দেয়।
পরদিন হালিশহর রিং রোড এলাকার জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে নিহতের মেয়ে সালমা বেগম আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলাটি পিবিআইতে গেলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয়।
সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে নগরের মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেন এবং মিরসরাই থেকে তার ভায়রা আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেলাল হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত নারী সহযোগীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এমন নির্মম পারিবারিক হত্যাকাণ্ড সমাজে ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার ছাড়া এ ধরনের অপরাধ থামানো সম্ভব নয়।