চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়াতে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত ৩১ মার্চ একদিনেই নতুন করে ২৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু শিশু ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে নতুন করে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। সেখানে বর্তমানে ৩৩ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব শিশুর বেশিরভাগই হামের টিকা নেয়নি। ইতোমধ্যে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ৭ জনের শরীরে হাম এবং ১ জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার থেকে আসা সাড়ে ৫ মাস বয়সী এক শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শিশুটির নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে এটি হামজনিত মৃত্যু কিনা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলার মিলিয়ে মোট ৯১ জন শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নগর এলাকা থেকে ৪১ জন এবং উপজেলার ৫০ জন রয়েছে। প্রতিদিন নতুন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ টিকাবিহীন। আবার অনেক শিশু এক ডোজ টিকা নিলেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে টিকার কার্যকারিতা শতভাগ না হওয়ার কারণে হতে পারে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশুদের বয়স দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এছাড়া শূন্য থেকে এক বছরের শিশুর সংখ্যাও কম নয়, যাদের অনেকেরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, যেসব শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে তাদের দ্রুত পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শিশুদের হাম রোগ প্রতিরোধে টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।” তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শিশুদের ভিড় এড়িয়ে রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।