চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবার (৪ মে) বিকেলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মনোনয়ন সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরির প্রবেশমুখে। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র নিতে বাধা দেন। অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ-সমর্থিতদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল তিনটার দিকে সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি প্যানেল মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে বার লাইব্রেরির সামনে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা সাময়িকভাবে বার লাইব্রেরির দরজা বন্ধ করে দেন।
ঘটনার সময় আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন পক্ষের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এতে পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
চট্টগ্রাম বার নির্বাচন আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রওশন আরা বলেন, বাধার অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।
এদিকে সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ বলেন, তাঁরা সাধারণ আইনজীবী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক নেতা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
চট্টগ্রাম বার নির্বাচন উত্তেজনা এখন আইনজীবী মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।