এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম সিটি কলেজ সংঘর্ষকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের নীরবতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি ঘটনাটিকে দায়িত্বহীনতার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
২১ এপ্রিল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ সংঘর্ষের সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অথচ পুলিশের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি বলেন, “পুলিশের সামনেই হামলা হয়েছে, কিন্তু তারা নীরব ছিল। এটি গুরুতর দায়িত্বহীনতা।”
তিনি আরও জানান, হামলার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০ এপ্রিল বিকালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। শিবিরের দাবি, তাদের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
জানা গেছে, ক্যাম্পাসে আঁকা একটি গ্রাফিতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ডাকসু ভিপি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।