মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকার রসুলবাগ এখন চাক্তাই ডাইভারশন খাল ঘিরে তীব্র ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। খালটির বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় প্রায় আড়াই হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই বাকলিয়া জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটির দুই পাড়ে প্রায় চার শতাধিক ভবন রয়েছে। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানও অবস্থিত। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই খাল উপচে পানি ঢুকে পড়ে ঘরবাড়ি, দোকান ও রাস্তায়। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, কচুরিপানা ও পলিতে ভরে গেছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় কালচে পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে এলাকাটি এখন মশার বড় প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর খালপাড় দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর একই সমস্যা দেখা দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। খাল পরিষ্কার ও সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। ফলে চাক্তাই ডাইভারশন খাল এখন এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খাল-নালা পরিষ্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে কাজের কোনো দৃশ্যমান উন্নতি নেই। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পনার ঘাটতি ও তদারকির অভাবেই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
এদিকে নতুন করে খাল পরিষ্কার ও খননের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এবারও যদি কার্যক্রম ঠিকমতো বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আসন্ন বর্ষায় বাকলিয়া জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ হবে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও তারা মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়বে।