জোরারগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৭ নম্বর কাটাছড়া ইউনিয়নের পূর্ব বামনসুন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আবদুল আল নোমান। এ ঘটনায় তিনি জোরারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে আবদুল আল নোমানের পৈতৃক বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা হামলা চালিয়ে তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাড়ির ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়। একই সঙ্গে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় ইয়াছমিন আক্তারের গলায় থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া মারধরের একপর্যায়ে তার একটি নাকফুল হারিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীর পিতা আমানুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। জরুরি সেবা থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলেও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাইনি।”
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় হক সাহেব নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন, তবে ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তপক্ষ। মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, হেলাল, আবুল কালাম ও আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ভাড়াটিয়া দম্পতির মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হয়। ঘটনার দিন বাড়ির মালিকপক্ষ গালিগালাজ করলে প্রতিবেশী হিসেবে তারা বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরবে। বর্তমানে অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।