টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মালতিপাড়া এলাকায় কথিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গন্ধপুর দুলাল মোড় এলাকায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রউফ, ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা, শাকিল, শাহিন মিয়া, মারুফ মিয়া, বিএনপি নেতা বাকি, ফরিদুল, সমাজসেবক এনায়েত করিম, গোলাপ মিয়া, হাসেন আলী, রাশেদুলসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তির নাম মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান।
বিএনপি নেতা ফরিদুল ও বাকি বলেন, মামলাটি তাদের কাছে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে। তাদের দাবি, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নার্গিস আক্তার মামলাটি করেছেন। এতে আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই শাহিন মিয়া, শাহিনের স্ত্রী ফরিদা বেগম, ভাতিজির জামাই শাকিল, চাচাতো ভাই রাশেদুল এবং স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি খোকনসহ কয়েকজনের নাম জড়ানো হয়েছে। তারা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
রাজ্জাক ও শাহিনের ভাতিজা মারুফ মিয়া বলেন, তার দুই চাচা আব্দুর রাজ্জাক ও শাহিন মিয়া। চুরির ঘটনার সঙ্গে শাহিন, শাকিল, রাশেদুল, ফরিদা ও খোকন জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন। হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের নাম মামলায় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার সাক্ষী হিসেবে নাম থাকা এনায়েত করিম ও হাসেন আলী বলেন, ঘটনার বিষয়ে তারা সরাসরি কিছু জানেন না। তাদের ভাষ্য, ঘটনার কয়েক দিন পর তাদের ওই বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তারা ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং টিনের এক পাশ খোলা দেখতে পান। তবে যাদের নাম মামলায় এসেছে, তাদের কাউকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেখেননি বলে তারা জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন। মামলায় যাদের নাম এসেছে, তাদের অনেককেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তিনি।
তবে মামলার বাদী নার্গিস আক্তার বলেন, তার বাড়ি থেকে টেলিভিশন, ফ্রিজ, কাগজপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও তিনি চান।
হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, তিনি জনগণের সেবক হিসেবে এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তার দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে মামলাটি করা হয়েছে। তবে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি। পারিবারিকভাবে বসে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভালো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজান জানান, গত ২৯ আগস্ট চুরির ঘটনা ঘটে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় থানায় মামলা এজাহারভুক্ত হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে তিনি জানান।