ঠাকুরগাঁওয়ে হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন জেলার আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা কালেক্টরেট চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জেলার আলু চাষি ও অংশীজনদের সংগঠন ‘আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি’র ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।
“কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা আলু চাষি সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম এবং বালিয়াডাঙ্গী আলু চাষি সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সালামসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তাদের দাবি, এই ভাড়া কমিয়ে প্রতি কেজি ৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তারা জানান, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে বর্তমানে ১৭ থেকে ১৮ টাকা ব্যয় হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত সংরক্ষণ খরচ যুক্ত হওয়ায় কৃষকদের লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও আলু চাষি নেতারা আরও বলেন, আলু একটি পচনশীল কৃষিপণ্য। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের বিকল্প নেই। কিন্তু এই প্রয়োজনীয়তাকে কাজে লাগিয়ে হিমাগার মালিকরা ধারাবাহিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। গত তিন বছরে সংরক্ষণ ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
কৃষকদের মতে, বাজারে আলুর দাম কম থাকলেও উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী কৃষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে হিমাগার ভাড়া কমিয়ে প্রতি কেজি ৫ টাকা নির্ধারণসহ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।