ঠাকুরগাঁও: জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা রবি রায় দুই বছরের সাজা ভোগ করছেন। জেলা প্রশাসনের (রাজস্ব) অধীনে কর্মরত তিনি তিনটি পৃথক মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই এক বছর কারাগারে থাকার পরও তার বেতন ও ভাতা নিয়মিত উত্তোলন হচ্ছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে তার চাকরি স্থগিত হওয়া উচিত। কিন্তু রবি রায়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অন্য চিত্র। প্রতিমাসে তার নামে বেতন উত্তোলন হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানান, ‘এটি সরকারি নিয়মের বিপরীত এবং গুরুতর অনিয়ম হতে পারে। এর পেছনে প্রভাব ও দুর্নীতির বিষয় জড়িত থাকতে পারে।’ জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘রবি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
পীরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা বিষয়টি জানি। তিনি নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ মানবাধিকারকর্মী নূর আফতাবুল বলেন, ‘দণ্ডিত কর্মকর্তা কীভাবে বেতন পাচ্ছেন, তা তদন্ত করা জরুরি। না হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।’
ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত। দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বেতন ভাতা উত্তোলনের নিয়ম ভঙ্গ হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের জন্য জরুরি।