রাজধানীর দারুস সালামে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক শাহিন আলম আশিকসহ তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ১১ মে ২০২৬ বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহিন আলম আশিক তার সহকর্মী ক্যামেরাম্যান রায়হান মোস্তফা এবং গোলাম মগ্নী রিপনকে নিয়ে রাজধানীর দারুস সালামের গৈদারটেক এলাকায় যান। সেখানে প্রশাসনের সিলগালা করা একটি মিষ্টির কারখানা পুনরায় চালুর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের সময় কারখানার মালিক সোহেলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের মারধর করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে।
হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক গোলাম মগ্নী রিপন। তার বাম হাতের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। ক্যামেরাম্যান রায়হান মোস্তফাও আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহতরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ মেমোরি কার্ড এবং নগদ ১০ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে সাংবাদিক শাহিন আলম আশিক দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার পর ঢাকা প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাব, দক্ষিণ অঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা।”
সাংবাদিক নেতারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত সোহেলসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।
এ ঘটনায় দেশের সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি।