দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ দফাদার নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। “দফাদার নিয়োগ অনিয়ম” এবং “বিরামপুর গ্রাম পুলিশ নিয়োগ” বিষয়টি এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একই ইউনিয়নে পিতা ও পুত্রকে সরকারি কাঠামোর আওতাধীন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান নিয়মের পরিপন্থী।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। “তাসদিকুর রহমান” নামে একজনকে কোনো অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা ছাড়াই সরাসরি দফাদার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, গ্রাম পুলিশ সদস্য মতিলালের ছেলে “রামলাল”-কেও একই ইউনিয়নে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, দফাদার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। পাশাপাশি একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। বিরামপুর উপজেলা গ্রাম পুলিশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, “যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।”
অন্যদিকে, গ্রাম পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন জানান, “আমরা নিয়ম মেনে আবেদন করেও বঞ্চিত হয়েছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত গ্রাম পুলিশ নগেন চন্দ্রের শূন্য পদেও তার পরিবারের কেউ সুযোগ পায়নি। বরং প্রভাবশালী মহল নিজেদের লোককে নিয়োগ দিয়েছে।
বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল বলেন, তিনি নিয়োগের সময় দায়িত্বে ছিলেন না। তবে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন বলে জানান।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দফাদার নিয়োগ অনিয়ম দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।
স্থানীয় জনগণের দাবি, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।