এম ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় কৃষি খাতের উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER) কংগ্রেস-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) উপজেলার পরিষদ মিলনায়তনে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে Department of Agricultural Extension Bangladesh এর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় Upazila Parishad Doarabazar মিলনায়তনে।
অনুষ্ঠানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ। কংগ্রেসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ নাজমুল কবির।
তিনি বলেন, দেশের কৃষিকে আধুনিক, লাভজনক ও টেকসই করতে হলে কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে আরও বেশি যুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। তিনি পার্টনার প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বাজার সংযোগ সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য এরশাদুর রহমান এরশাদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালিব ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক, কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা এবং অংশীজনরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
বক্তারা বলেন, কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে না পারলে উৎপাদন বৃদ্ধি কঠিন হবে। তাই কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিতে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষি খাতে বিশেষ অবদান রাখা কয়েকজন কৃষক ও উদ্যোক্তাকে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়। তারা তাদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ কৃষি পরিকল্পনা নিয়ে মতামত দেন।
কংগ্রেসে আরও আলোচনা হয় কীভাবে কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করা যায়, কীভাবে তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা যায় এবং কীভাবে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে “পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬” দোয়ারাবাজারে কৃষি উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন দিক নির্দেশনা দিয়েছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।