নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণামনস্কতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে নবীগঞ্জে স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে এবং এডুকেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট সিস্টেম (ইইএসএস)-এর আয়োজনে শুক্রবার (১২ জুন) নবীগঞ্জের জে কে মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে “স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি” অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। প্রদর্শনীতে উপজেলার ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তারা বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন, সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুসরাত ফেরদৌসি, উপজেলা পজীপ কর্মকর্তা সাকিল আহমেদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শাহনাজ ইসলাম এবং নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল আলম। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, স্মার্ট কৃষি, জ্বালানি সাশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিভিন্ন প্রকল্প উপস্থাপন করে। এসব প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং বাস্তবমুখী চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। বিশেষ করে উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অংশে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু ভাবতে, গবেষণায় আগ্রহী হতে এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনী মনোভাব সৃষ্টি করতে এ ধরনের প্রদর্শনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় সম্পৃক্ত হতে হবে।”
আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তারা ভবিষ্যতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।