স্বপন রবি দাশ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর শাশুড়ি হত্যা মামলায় পলাতক প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার রাধানগর গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে সুবেল মিয়া (২৭), একই গ্রামের নসামসুদ্দিনের ছেলে আফজাল হোসেন (২৬) এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের নুরুল আমীনের ছেলে জোবায়ের হোসেন (২৬)।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ মার্চ সকালে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর স্বামী মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তাদের ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বিদেশে অবস্থান করায় তিনি পুত্রবধূ তামান্না আক্তারের সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন।
ঘটনার পরদিনই (১৭ মার্চ) পুত্রবধূ তামান্না আক্তার (২২)-কে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তামান্না আক্তারের সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই যুবকসহ আরও কয়েকজন বাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ফেরদৌসী ইসলাম বাধা দিলে তাকে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর অন্যান্য আসামিরা পলাতক ছিল এবং বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। অবশেষে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদির গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান আছে।
এই নবীগঞ্জ শাশুড়ি হত্যা এবং ইনাতগঞ্জ হত্যা মামলা বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।