স্টাফ রিপোর্টার: এমডি শাহিনুর ইসলাম শাহিন।
নেত্রকোনায় অবৈধভাবে আয়োজিত ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জন জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, একটি পিকআপ ভ্যান এবং লড়াইয়ে ব্যবহৃত একটি ষাঁড় জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বিশেষ অভিযান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৭ জুন (বুধবার) ভোর রাতে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কের কান্দুলিয়া কালীবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মাজহারুল ইসলাম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে পালানোর চেষ্টা করলেও ১৫ জনকে আটক করা সম্ভব হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়, যা জুয়ার বাজি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি ষাঁড় (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যমান) এবং একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-৯৮৮৯) জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করে আসছিল এবং একই সঙ্গে সেখানে অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জুয়া ও অবৈধ কার্যক্রম দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এ ধরনের অবৈধ আসর শুধু সামাজিক অবক্ষয়ই বাড়ায় না, বরং যুবসমাজকেও বিপথে ঠেলে দেয়।
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছে।
এই সফল অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে, অবৈধ জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।