হৃদয়ছোঁয়া একটি কাব্য রচনা করেছেন প্রভাষক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। কবিতাটি মানুষের জন্মভূমি, শৈশবের স্মৃতি, প্রিয়জনের ভালোবাসা এবং জীবনের শেষ আশ্রয়ের সঙ্গে পথের ধূলির গভীর সম্পর্ককে অত্যন্ত সহজ অথচ আবেগপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছে।
‘পথের ধূলি’ কবিতায় কবি একের পর এক প্রশ্নের মাধ্যমে পাঠককে ভাবনার জগতে নিয়ে যান। তিনি জানতে চান, কোন পথের ধূলি সবচেয়ে আপন, কোন ধূলি জীবনভর মানুষের সঙ্গী হয়ে থাকে। এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে মানুষের শেকড়, স্মৃতি ও জন্মভূমির প্রতি গভীর টান।
কবিতার বিভিন্ন স্তবকে শৈশব, কৈশোর, বন্ধুত্ব, স্বজন এবং হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষের স্মৃতিকে পথের ধূলির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কবির ভাষায়, সেই ধূলিতেই রয়েছে জীবনের আনন্দ, কান্না, ভালোবাসা এবং শেষ আশ্রয়ের প্রতীক।
পথের ধূলি কবিতা-তে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেখিয়েছেন, একটি গ্রামের মাটির পথ কিংবা শৈশবের পরিচিত ধূলি শুধু মাটি নয়; এটি স্মৃতি, ইতিহাস এবং আত্মপরিচয়ের অংশ। সেই ধূলির মাঝেই মানুষ বড় হয়, স্বপ্ন দেখে এবং একসময় জীবনের শেষ ঠিকানাও খুঁজে নেয়।
কবি প্রভাষক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম তাঁর কাব্যে সহজ-সরল শব্দচয়ন ব্যবহার করেছেন। ফলে যে কোনো বয়সের পাঠক সহজেই কবিতার মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারেন। এতে দেশপ্রেম, পারিবারিক বন্ধন এবং জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার বার্তাও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, ‘পথের ধূলি’ কেবল একটি কবিতা নয়; এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে মাটির চিরন্তন সম্পর্কের কাব্যিক প্রকাশ। শৈশবের স্মৃতি, প্রিয়জনের উপস্থিতি এবং মৃত্যুর পরও আপন মাটির বুকে শুয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষা কবিতাটিকে আরও গভীর অর্থবহ করে তুলেছে।
বাংলা কবিতার ধারায় এমন আবেগঘন সৃষ্টি পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে বলে মনে করছেন সাহিত্য অনুরাগীরা। পথের ধূলি কবিতা মানুষের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা, স্মৃতির প্রতি মমত্ববোধ এবং জীবনের চূড়ান্ত সত্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে প্রভাষক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম তাঁর কাব্যিক অনুভূতির মাধ্যমে পাঠকদের মনে মানবিক মূল্যবোধ ও জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।