মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি,
বাজেট কার্যকর হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিগারেটের দাম বৃদ্ধি ও তামাক বাজার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তারা জানিয়েছেন, জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সিগারেট আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায় থেকেই দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘোষণার পর থেকেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী চক্র বাজারে সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম সংকট। এই সুযোগে বাজারে দ্রুত সিগারেটের দাম বৃদ্ধি ঘটছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জুন মাসের শুরু থেকেই পাইকারি বাজারে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে পূর্বের দামে পণ্য বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, সিগারেটের চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় বাড়তি খরচ তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজেটে যেসব পণ্যের কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দাম এখনো কমেনি। কোথাও কোথাও উল্টো দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এর জন্য পুরোনো স্টক শেষ না হওয়ার যুক্তি দিলেও ভোক্তারা বলছেন, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কমানোর ক্ষেত্রে বিলম্ব করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরাসরি তামাক বাজার অস্থিরতার একটি উদাহরণ। বাজেট ঘোষণা ও বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী সময়ে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ নেয়। তারা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতি বছরই দেখা যাবে। তারা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোক্তারা বলছেন, বাজেটের আগের এই সময়টিতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে বাজার তদারকি করা জরুরি। না হলে সাধারণ মানুষ বারবার ক্ষতির মুখে পড়বে এবং বাজারে আস্থা নষ্ট হবে।