ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২১৪ বোতল স্কাফ সিরাপসহ ফজলুর রহমান ওরফে ফজু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজয়নগর থানার একটি দল শুক্রবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে জালালপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মৃত বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ওই বাড়িটি গ্রেপ্তার ফজলুর রহমানের শ্বশুরবাড়ি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের সময় বাড়ির উত্তর পাশের একটি কক্ষ থেকে ফজলুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির শয়নকক্ষের ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে রাখা ২১৪ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্কাফ সিরাপগুলো উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিজয়নগর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও চারটি মাদক মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান বিজয়নগর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মৃত আবুল মাহজনের ছেলে।
বিজয়নগরে মাদকবিরোধী অভিযান
বিজয়নগরে মাদক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এ ধরনের অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হলেও মাদকের সরবরাহ বন্ধে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও যোগাযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এলাকাগুলোতে মাদক পরিবহন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ২১৪ বোতল স্কাফ সিরাপ মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।