মোঃ মনজুরুল ইসলাম
রাজধানীর মিরপুরে বিদেশী পিস্তল উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ। দায়িত্ব পালনকালে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার কারণে এক দুষ্কৃতিকারীকে বিদেশী পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা আবারও আলোচনায় এসেছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুলাই ২০২৬, সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে দারুসসালাম ট্রাফিক জোনে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায়। এ সময় তিনি একটি হলুদ রঙের নতুন স্পোর্টস কারকে বেপরোয়া গতিতে চলতে দেখে থামার সংকেত দেন। গাড়িটি প্রথমে থামলেও চালক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
চালক ও আরোহীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। ঠিক তখনই চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বুঝে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় তাৎক্ষণিক ধাওয়া শুরু করেন এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সেলফি কাউন্টারের সামনে গাড়িটি আটক করতে সক্ষম হন।
পরে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সদস্য এবং পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) বিকাসুজ্জামান রনির উপস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের সামনে গাড়ির আরোহী সাজ্জাদ হোসেন আশিক (২০)-কে আটক করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি ম্যাগাজিনও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তিকে দারুসসালাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিসি ট্রাফিক মিরপুর মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, পিপিএম-বার, সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায়ের সাহসিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদার আচরণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সড়কে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপরাধ দমনে ট্রাফিক সদস্যদের এমন তৎপরতা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সদস্যরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ দমনে সফলতা অর্জন করেছেন। তারা চোরাই গরু ও ছাগল উদ্ধার, চোর আটক, ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং মাদকসহ অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাফিক সার্জেন্ট ও ট্রাফিক সদস্যরা শুধু যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখেন না, একই সঙ্গে সড়কে অপরাধ প্রতিরোধ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নিয়মিত কাজ করছেন। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ।