সাদেকুল ইসলাম, বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অস্তিত্ব ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
রবিবার দুপুরে বিরল উপজেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিডিএ) এবং ঝানজিরা সমাজ কল্যাণ সংস্থা (জেএসকেএস) অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে।
রাণীপুকুর ইউনিয়নের টিনপাড়া এসকেএস চার্চ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষায় তাঁদের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা।’ একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভূমি, ঐতিহ্য, অস্তিত্ব সুরক্ষা ও স্বীকৃতির দাবিও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক।
বিরল উপজেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি বিমল মার্ডির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বাবুল হোসেন, থানার ওসি (তদন্ত) আনিছুর রহমান সরকার, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুল হক হিরা, উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেন্টু, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আফছার আলী মেম্বারসহ অন্যরা।
এ ছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজা বেগম সোনা, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, সিডিএর উপপরিচালক ড. ফরিদা পারভীন কেয়া, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান এবং জেএসকেএস ব্যবস্থাপক রেজাউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিরল উপজেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সিংহ।
আলোচনা সভায় বক্তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ভূমির অধিকার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দেশের বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাঁদের অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
অনুষ্ঠান শেষে গ্রামীণ কৃষি শ্রমজীবী ও আদিবাসী মানুষের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথির কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ভূমি, অধিকার, ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
পরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। আনন্দঘন পরিবেশে বিরলে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপনের কর্মসূচি শেষ হয়।