বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে কবি তাছলিমা আক্তার মুক্তার রচিত ‘আমাদের সুখের ঘর’ কবিতাটি পরিবার, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক সুন্দর বার্তা তুলে ধরেছে। কবিতাটিতে একজন সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাবা, মা, ভাই ও বোনের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রতি আন্তরিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
কবিতার শুরুতেই কবি বাবার প্রতি নিজের আবেগ ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাবা তুমি রাগ করো না, ভেবোনা আমায় মন্দ,”—এই পংক্তির মাধ্যমে একজন সন্তানের মনের সরলতা ও বাবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি বাবার নামেও কবিতা ও ছন্দ লেখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
কবিতায় মায়ের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। কবি উল্লেখ করেছেন, মাকে নিয়ে তিনি হাজার কবিতা লিখলেও বাবার অনুপ্রেরণাই তাকে গল্প লিখতে শিখিয়েছে। এতে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অবদানকে সম্মান জানানোর একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া ভাই ও বোনকে নিয়েও লেখার অঙ্গীকার করেছেন কবি। তিনি মনে করেন, পরিবারের সবার স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকাই জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ। এই ভাবনাই কবিতার মূল শক্তি। পারিবারিক ভালোবাসা যে মানুষের জীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও আনন্দ এনে দেয়, কবিতাটি তারই এক আবেগঘন প্রতিচ্ছবি।
কবিতার শেষ অংশে বাবা-মা, ভাই-বোনকে নিয়ে গড়ে ওঠা সুখের সংসারের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। “দিনের আলোয় পরিপূর্ণ, রাতের জোছনা ঝরে”—এই চিত্রকল্প পরিবারের উষ্ণতা ও সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, ‘আমাদের সুখের ঘর’ শুধু একটি কবিতা নয়; এটি পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক হৃদয়স্পর্শী দলিল। বিশ্ব বাবা দিবস-এর প্রেক্ষাপটে কবিতাটি পাঠকদের মনে বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি আরও গভীর করবে বলে মনে করছেন অনেকে।