সাংবাদিক এম এস শ্রাবণ মাহমুদ
আজ বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন। একজন সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকা শুধু অভিভাবকের নয়, তিনি একজন পথপ্রদর্শক, শিক্ষক, বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাবাদের নিঃস্বার্থ অবদান ও আত্মত্যাগ স্মরণ করছেন কোটি কোটি মানুষ।
সাংবাদিক এম এস শ্রাবণ মাহমুদ তাঁর অনুভূতিতে তুলে ধরেছেন একজন বাবার প্রতি সন্তানের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা। তিনি বলেন, “বাবাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে শব্দগুলো ছোট হয়ে যায়। কারণ বাবাকে কোনো উপমায় মাপা যায় না। তিনি নদী নন, পাহাড় নন, আকাশও নন। তিনি সেই মানুষ, যার কাঁধে দাঁড়িয়ে আমরা পৃথিবী দেখতে শিখি।”
একজন সন্তানের জন্মের মুহূর্ত থেকেই বাবা তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সন্তান যখন প্রথম হাঁটতে শেখে, তখন বাবা দায়িত্বের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যান। সন্তান স্কুলে যায়, আর বাবা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেন।
সমাজে অসংখ্য বাবা আছেন, যারা নিজের প্রয়োজনকে তুচ্ছ করে সন্তানের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন। ঈদের নতুন পোশাক কেনার আগে নিজের শার্ট আরেক বছর ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত, মাসের শেষে অর্থের সংকটের মধ্যেও সন্তানের বই ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করা—এসবই একজন বাবার নীরব আত্মত্যাগের উদাহরণ। বাবার ত্যাগ ও ভালোবাসা কখনও উচ্চস্বরে প্রকাশ পায় না, কিন্তু সন্তানের জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে তা দৃশ্যমান থাকে।
বাবারা খুব কমই বলেন যে তারা ক্লান্ত। খুব কমই জানান তাদের কষ্টের কথা। কিন্তু রাতের নীরবতায় তাদের চোখের ভাষা অনেক অপ্রকাশিত গল্প বলে দেয়। তাদের ভালোবাসা রোদের মতো—সবসময় পাশে থাকে, কিন্তু নিজের উপস্থিতির কথা কখনও ঘোষণা করে না।
আজকের এই বিশ্ব বাবা দিবসে আমরা স্মরণ করি সেই সব বাবাদের, যারা সন্তানের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। হয়তো তারা কোনো পুরস্কার পাননি, কোনো ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাননি, কিন্তু সন্তানের জীবনের প্রতিটি অর্জনের নেপথ্যে রয়েছেন তারাই।
বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সকল বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা, অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। কারণ বাবা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে বড় শক্তি এবং জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রেরণা।