সৌদি আরব প্রতিনিধি: মোহাম্মদ সেলিম রানা
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় একটি পাঁচ তারকা হোটেলের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার এক নারী হাজিকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিউটিরত অবস্থায় হোটেলকর্মী আব্দুল কাইয়ুম ইন্দোনেশিয়ার ওই নারী হাজির সঙ্গে একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। এতে তিনি বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন। পরে বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়।
জানা গেছে, আব্দুল কাইয়ুমের দেশের বাড়ি সিলেট। অভিযোগ পাওয়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও নেওয়া হয়। এরপর তাকে হোটেলের চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মক্কায় নারী হাজিকে হয়রানি করার অভিযোগটি সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা মক্কায় আসেন। এ কারণে হোটেলসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের আচরণ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি আইনগত নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই ধরনের আরও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়, সেগুলোকে অভিযোগ বা দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মক্কার হোটেলকর্মী বরখাস্ত হওয়ার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিদেশের মাটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন, ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তির দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। বিশেষ করে মক্কার মতো পবিত্র নগরীতে বিভিন্ন দেশের হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ শালীনতা ও সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।