নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় হাবিবুর রহমান হাবিবের সম্পদের আকস্মিক ও বিস্ফোরক বৃদ্ধি ঘিরে জনমনে তীব্র সন্দেহ, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে একসময়ের সাধারণ জীবনযাপনকারী এই ব্যক্তির অস্বাভাবিক আর্থিক উত্থান এখন এলাকাবাসীর কাছে রহস্যে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে গাড়ির হেল্পার হিসেবে পরিচিত হাবিবুর রহমান হাবিব হঠাৎ করেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। তাদের দাবি, স্বল্প সময়ে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক আয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়—এ বিষয়টি ঘিরে এখন পুরো এলাকা জুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের ঝড়।
ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তার নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বিলাসবহুল বাড়ি, বাংলাবাজারে কোটি টাকার জমি ক্রয় এবং তেলিপাড়ায় একাধিক সম্পত্তির তথ্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সন্দেহ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দৃশ্যমান আয়ের সঙ্গে তার বর্তমান জীবনযাত্রার কোনো মিল নেই। একটি সীমিত আয়ের গরুর খামার থাকলেও সেটির আয় দিয়ে এমন বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে তারা দাবি করছেন। ফলে বিষয়টি এখন “অস্বাভাবিক সম্পদ বিস্ফোরণ” হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
এছাড়া তার একাধিক গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতা এবং নিজেকে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে—যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কথাও শোনা গেলেও কার্যকর কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ অবস্থায় তারা দ্রুত নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
হাবিবুর রহমান হাবিবের পারিবারিক পটভূমি অনুযায়ী, তিনি কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন—যেখানে তার বাবা কাঠমিস্ত্রি এবং মা গৃহিণী। এই পটভূমির সঙ্গে বর্তমান সম্পদের বিস্তারের ব্যবধান নিয়েও এলাকায় বিস্ময় ও আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছে, পুরো বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি—নইলে এই রহস্য আরও ঘনীভূত হবে।