রাজশাহীতে ছেলের হাতে বাবা নিহত হওয়ার একটি মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় নিহত হয়েছেন স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিম (৬০)। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাকিবুলের সঙ্গে তার মা-বাবার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলাকালে রাকিবুল হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি ভারী মুগুর হাতে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বাবা রেজাউল করিমের মাথায় পরপর কয়েকটি আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হন ওই শিক্ষক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্কুলশিক্ষক হত্যার এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত রাকিবুল দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছেলে তার বাবাকে মুগুর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে রাজশাহীতে ছেলের হাতে বাবা নিহত হওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।