মোঃ সোহেল রানা, রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫)-এর সদর কোম্পানি ও সিপিসি কোম্পানির একটি যৌথ দল অভিযানে অংশ নেয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমানো এবং পরিবেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি আইন অমান্য করে রোগীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযান শেষে আটক ৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়। আদালত তাদের অপরাধের ধরন বিবেচনা করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— সুজন পলান (পিতা: মো. সেলিম), মো. সানি (পিতা: সূর্য), বাবু দাশ (পিতা: লেবু দাশ), আহমেদ আলী (পিতা: মৃত হাবিবুর রহমান), সিমা (পিতা: রমজান আলী), তৌহিদা তানজিম (পিতা: ফয়সাল চৌধুরী) এবং মোছা. রিনা পারভিন (পিতা: নজিরউদ্দিন)।
অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার মিডিয়া সেল জানায়, সাধারণ মানুষ ও রোগীদের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী দমন, ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ, ছিনতাই এবং মাদকবিরোধী অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেল এলাকায় দালালচক্রের তৎপরতা ও রোগীদের হয়রানি বন্ধে এমন অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি অব্যাহত রাখবে।
এদিকে ৭ দালাল গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া দণ্ডই বর্তমানে কার্যকর হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জনস্বার্থে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে এবং অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।