গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নতুন সমস্যা নয়—বরং দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল।
সোমবার (৪ মে) ভোর রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত টানা প্রায় ৬ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হয়। এতে শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাগমারা (কলেজপাড়া) এলাকায় কোমর সমান পানি জমে যায়। ফলে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার সকাল থেকে খাবার রান্না করতে পারেনি। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। পানিবন্দি অবস্থায় তাদের জীবনযাপন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে যায়। অনেক সময় সেই পানি ঘরেও প্রবেশ করে। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে চলাফেরা করতে হয়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, গত চার বছর ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন। বহুবার পৌরসভা ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
ষাটোর্ধ্ব জুলফিকার জানান, পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও পানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না।
এদিকে, দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আখতার জানান, অস্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত ড্রেন ও কালভার্ট সমস্যার সমাধান করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তারা স্থায়ী সমাধান চান, যাতে প্রতি বর্ষায় এই দুর্ভোগে পড়তে না হয়।