রাজশাহীতে সাংবাদিক সোহেল মাহবুবকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র।
জানা গেছে, গত ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক ও রাজশাহী এডিটরস ফোরামের নেতা সোহেল মাহবুব বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিশিষ্ট কলামিস্ট, সমাজসেবক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পেশাদার সাংবাদিকতার সংকট এবং রাজশাহী প্রেসক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বক্তব্যে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং হুমকিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে কোনো ধরনের অপকর্ম বা অনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সাংবাদিক পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সোহেল মাহবুব বলেন, “আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলি। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো চাপ বা হুমকির মুখে পড়তে হয়, তবুও আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব। মিথ্যার সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খতিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, রাজশাহীর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।