মোঃ রাসেল মিয়া, গাজীপুর:
গাজীপুরে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ একমাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন ফরহাদ হোসেন। তাঁর সুস্থ হয়ে ফেরার খবরে স্বস্তি ও আবেগে ভেসেছে পুরো এলাকা। পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে আনন্দ আর আবেগঘন পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে জুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন ফরহাদ হোসেন। অতর্কিত ওই সন্ত্রাসী হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর শুরু হয় তাঁর জীবন বাঁচানোর লড়াই। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে টানা চিকিৎসা দেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রতিটি দিন ছিল আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় ভরা। স্বজনদের কান্না আর এলাকাবাসীর দোয়ায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন ফরহাদ হোসেন।
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের ছাড়পত্র নিয়ে যখন তিনি বাড়ি ফেরেন, তখন বাড়ির সামনে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। কেউ ফুল নিয়ে, কেউ চোখের জল নিয়ে প্রিয় মানুষটিকে স্বাগত জানান। পুরো এলাকায় তৈরি হয় আবেগঘন এক পরিবেশ।
বাড়ি ফেরার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ফরহাদ হোসেন বলেন,
“আমি নতুন জীবন পেয়েছি সবার দোয়া ও ভালোবাসায়। হাসপাতালে প্রতিটি মুহূর্তে মনে হয়েছে মানুষের ভালোবাসা থাকলে মৃত্যুকেও হার মানানো যায়।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা আমার পাশে ছিলেন, খোঁজ নিয়েছেন এবং দোয়া করেছেন, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসা আমি কখনও ভুলবো না।”
ফরহাদ হোসেনের পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর থেকে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
ফরহাদ হোসেনের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শুধু একটি ব্যক্তিগত লড়াইয়ের জয় নয়, এটি মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।