নওগাঁর সাপাহারে নারীদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে জামিয়া ইসলামিয়া খাতুনে জান্নাত মহিলা হিফজ ও ক্বওমী মাদ্রাসা সুনামের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার বিনোদপুর দক্ষিণ পাড়ায় অবস্থিত এই মাদ্রাসা কোরআন তিলাওয়াত, হেফজ (মুখস্থকরণ) এবং ইসলামিক অনুশাসন শিক্ষার মাধ্যমে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মাদ্রাসাটি গ্রামাঞ্চলের জন্য আবাসিক ও অনাবাসিক সুবিধার সাথে হাফেজা তৈরির ধারাকে শক্তিশালী করেছে। পরিচালনা করছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ কারী মোঃ মুয়াজ্জম হোসাইন, যিনি ইরান ও বাংলাদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এছাড়া মাদ্রাসার নীতিনির্ধারণে পরামর্শ দিচ্ছেন মুরুব্বী হাকিমুন নফছ আল্লামা মুফতি মুসতাকুন্নবী কাসেমী।
মাদ্রাসার মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত হেফজ অর্জনের ব্যবস্থা, বয়স্ক মহিলাদের জন্য কোরআন শিক্ষা, এবং বছরে চারবার নূরানী, নাজেরা ও হিফজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ে হিফজ সম্পন্ন করতে পারে এবং দশম শ্রেণী পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
মাদ্রাসায় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করছে। ছাত্রীরা কেবল কোরআন মুখস্থ নয়, বরং ইসলামের মৌলিক জ্ঞানও অর্জন করছে এবং সুশিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা কন্যা শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রহী। ২০২৫ সালে স্থাপিত হলেও ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০-এর বেশি। মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ভর্তির কার্যক্রমও চলছে।
সাপাহারের এই মহিলা হিফজ মাদ্রাসা নারী শিক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এবং ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।