জাহাঙ্গীর আলম মানিক, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সাপাহারে চৌধুরী চাঁন মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রী কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য নবীন বরণ, বিদায় ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাপাহার মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে যেমন নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়, অন্যদিকে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা। একই সঙ্গে অভিভাবকদের অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বিশেষভাবে নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজকে সরকারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার এই বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি রোমানা রিয়াজ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং নিয়মিত পড়াশোনা ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী ফরিদা আরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদুল ইসলাম, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেনু, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী লাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এবং কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল মজিদসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা সবাই শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, নারী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক গুণাবলি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বর্তমান যুগে শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, বরং নৈতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অতিথিরা।