জাহাঙ্গীর আলম মানিক, সাপাহার নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে একটি কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির ওজন ৯৪.৭৫০ কেজি। প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়নে এটি ১১–১২ শতকের উচ্চমানের কষ্টি পাথরের একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হাচানুর রহমান নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পান যে, খঞ্জনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মরাডাঙ্গা এলাকায় বনবিভাগের পুরোনো আকাশমনি বাগানে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি কেনাবেচার উদ্দেশ্যে জড়ো হবে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মো. হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি বিশেষ টহলদল সোমবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি সীমান্ত পিলার ২৫০/২-এস থেকে প্রায় ২৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরাডাঙ্গা এলাকার বনবিভাগের পুরোনো আকাশমনি বাগানে পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সঙ্গে থাকা মূর্তিটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে টহলদল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির ওজন ৯৪.৭৫০ কেজি।
পরবর্তীতে স্থানীয় নজিপুর জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকার মূর্তিটি পরীক্ষা করে এটি প্রকৃত কষ্টি পাথরের তৈরি বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। এরপর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, পাহাড়পুরের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, এটি ১১–১২ শতকে নির্মিত উচ্চমানের কষ্টি পাথরের একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রাচীন মূর্তি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্নসম্পদ পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার, চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে ১৪ বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও দেশের প্রত্নসম্পদ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এই সফল অভিযানের মাধ্যমে একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাচারকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।