ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার হেমায়েত মাতুব্বার ও প্রতিপক্ষ মো. ফারুক মাতুব্বর সমর্থক বাচ্চু চোকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
বিরোধ মীমাংসার জন্য এদিন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসের উদ্যোগ নেন। জমি মাপার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং দ্রুতই তা বড় আকারের সংঘর্ষে পরিণত হয়।
প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
ভাঙচুরের শিকার হন মেহেদী মুন্সী, মিন্টু মুন্সী, সেলিম মুন্সী, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মিজা, সেলিম চোকদার ও আছাদ শেখের বাড়ি।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আব্বাস মাতুব্বার, তমিজদ্দিন মাতুব্বার, আজাদ শেখ, রাজ্জাক শেখ, পিকুল মাতুব্বার, লিটন মীর ও আলিম মীরকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।