বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

নাসিরনগরের মহাখাল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ, এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে

‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের মহাখাল খালের ওপর নির্মিত শতবর্ষী মহাখাল সেতু এখন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরাইল-নাসিরনগর-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে থাকা এই সেতুটি বর্তমানে “মৃত্যুফাঁদ” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে স্থানীয়দের মাঝে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর মাঝখানে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। দুই পাশের অংশ ভেঙে পড়েছে এবং ডেকের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত দেখা দিয়েছে। কংক্রিট উঠে গিয়ে লোহার রড বের হয়ে এসেছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপতে থাকে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ঝুঁকি এড়াতে আগে একটি অস্থায়ী মিনি সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেটির স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বিকল্প ব্যবহারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নাসিরনগর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা এবং শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বেণীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, “সেতু পার হতে সব সময় ভয় লাগে। বড় যানবাহন উঠলে মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে।”

সিএনজি চালক কুদ্দুস মিয়া জানান, গর্তের কারণে গাড়ির চাকা আটকে যায় এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি ভেঙে পড়লে প্রায় চার লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং সেতুর অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। তবে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণ দ্রুত এই মহাখাল সেতুর সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
২৬ সময় দৃশ্য

নাসিরনগরের মহাখাল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ, এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে

আপডেটের সময় : ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের মহাখাল খালের ওপর নির্মিত শতবর্ষী মহাখাল সেতু এখন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরাইল-নাসিরনগর-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে থাকা এই সেতুটি বর্তমানে “মৃত্যুফাঁদ” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে স্থানীয়দের মাঝে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর মাঝখানে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। দুই পাশের অংশ ভেঙে পড়েছে এবং ডেকের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত দেখা দিয়েছে। কংক্রিট উঠে গিয়ে লোহার রড বের হয়ে এসেছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপতে থাকে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ঝুঁকি এড়াতে আগে একটি অস্থায়ী মিনি সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটিও এখন বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেটির স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বিকল্প ব্যবহারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নাসিরনগর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা এবং শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বেণীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, “সেতু পার হতে সব সময় ভয় লাগে। বড় যানবাহন উঠলে মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে।”

সিএনজি চালক কুদ্দুস মিয়া জানান, গর্তের কারণে গাড়ির চাকা আটকে যায় এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি ভেঙে পড়লে প্রায় চার লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুতেই বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং সেতুর অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। তবে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনগণ দ্রুত এই মহাখাল সেতুর সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।