বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

নাসিরনগরে উল্টো রথযাত্রায় সম্প্রীতির আবহে শেষ জগন্নাথ দেবের উৎসব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

নাসিরনগরে উল্টো রথযাত্রা উদযাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভাগবত আলোচনা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।

নাসিরনগর সদর পশ্চিমপাড়া জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় গৌর মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। ভক্তরা আনন্দ-উৎসাহের সঙ্গে রথের দড়ি টানেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ দেব জগতের অধীশ্বর। ভক্তদের বিশ্বাস, আন্তরিকভাবে তাঁর আরাধনা করলে ঈশ্বরের কৃপা লাভ করা যায়। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে দেবতাদের মন্দিরে ফিরিয়ে আনার রীতি পালন করা হয়।

রথযাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো রথের দড়ি টানা। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-নির্বিশেষে অনেক মানুষ এতে অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, এই উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতীক।

উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন।

ভারতের পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে রথযাত্রার ঐতিহ্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতেও এই উৎসব দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। নাসিরনগরেও প্রতি বছর বিপুল উৎসাহে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এই উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা এবং সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই নাসিরনগরে উল্টো রথযাত্রা এবং জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় নয়, বরং বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হিসেবেও বিবেচিত।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
২৮ সময় দৃশ্য

নাসিরনগরে উল্টো রথযাত্রায় সম্প্রীতির আবহে শেষ জগন্নাথ দেবের উৎসব

আপডেটের সময় : ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

নাসিরনগরে উল্টো রথযাত্রা উদযাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভাগবত আলোচনা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।

নাসিরনগর সদর পশ্চিমপাড়া জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় গৌর মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। ভক্তরা আনন্দ-উৎসাহের সঙ্গে রথের দড়ি টানেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ দেব জগতের অধীশ্বর। ভক্তদের বিশ্বাস, আন্তরিকভাবে তাঁর আরাধনা করলে ঈশ্বরের কৃপা লাভ করা যায়। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে দেবতাদের মন্দিরে ফিরিয়ে আনার রীতি পালন করা হয়।

রথযাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো রথের দড়ি টানা। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-নির্বিশেষে অনেক মানুষ এতে অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, এই উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতীক।

উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন।

ভারতের পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে রথযাত্রার ঐতিহ্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতেও এই উৎসব দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। নাসিরনগরেও প্রতি বছর বিপুল উৎসাহে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এই উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা এবং সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই নাসিরনগরে উল্টো রথযাত্রা এবং জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় নয়, বরং বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য হিসেবেও বিবেচিত।