শ্রীপুরে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ফেসবুক অপপ্রচার, থানায় জিডি

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ফেসবুক অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকায় কর্মরত সাংবাদিক নাঈম (৩২) গত ২১ জুলাই শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি দৈনিক দেশ বর্তমানে পত্রিকার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রীপুরে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ফেসবুক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ‘ঘটনার আড়ালে’ নামের একটি ফেসবুক পেজ এবং SM Jaherul Islam নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পোস্টে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদকর্মীর দাবি, এসব পোস্টের কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত সুনাম এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগেও একই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তখন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ শ্রীপুর থানায় জিডি করে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।
জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই অপপ্রচারের সঙ্গে শ্রীপুরের মো. জহিরুল ধলাদিয়ার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। অভিযোগকারী মনে করেন, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষারও আবেদন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট ও পেজ অপসারণ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি জিডি নং ১৫০২, তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬, হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. মিজানুর রহমানকে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তাই অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








