বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

বরইউড়ি মাদ্রাসায় মানববন্ধন, সাবেক অধ্যক্ষের গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো

এম ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় দোয়ারাবাজারে বরইউড়ি মাদ্রাসায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরইউড়ি দারুস সুন্নাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজকে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও প্রধান ফটকের সামনে ‘সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গভর্নিং বডি এবং এলাকাবাসী’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. সৈয়দ হোসেন সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজকে ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হুমকির অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধানের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি তোলেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক, আব্দুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছির উদ্দিন মেম্বার ও আব্দুল গফুর বক্তব্য রাখেন। সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে হারুন মিয়া ও মইনুল হাসান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে ফাতেমা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার, নাইমা আক্তার, সুয়াইব আহমদ, জুবায়ের হোসাইন ও সোলাইমান আহমদ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এমন অভিযোগের দ্রুত তদন্ত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. সৈয়দ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি এলাকায় না থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
২১ সময় দৃশ্য

বরইউড়ি মাদ্রাসায় মানববন্ধন, সাবেক অধ্যক্ষের গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো

আপডেটের সময় : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

এম ডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় দোয়ারাবাজারে বরইউড়ি মাদ্রাসায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরইউড়ি দারুস সুন্নাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজকে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও প্রধান ফটকের সামনে ‘সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গভর্নিং বডি এবং এলাকাবাসী’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বডির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. সৈয়দ হোসেন সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজকে ফোনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হুমকির অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধানের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি তোলেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক, আব্দুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছির উদ্দিন মেম্বার ও আব্দুল গফুর বক্তব্য রাখেন। সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে হারুন মিয়া ও মইনুল হাসান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে ফাতেমা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার, নাইমা আক্তার, সুয়াইব আহমদ, জুবায়ের হোসাইন ও সোলাইমান আহমদ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এমন অভিযোগের দ্রুত তদন্ত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. সৈয়দ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি এলাকায় না থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।