নুরুল ইসলামের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের জোরালো দাবি

সাংবাদিক মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বয়ারমারি গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামকে ঘিরে নুরুল ইসলামের সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মাত্র চার বছর আগেও তিনি বেকারির পণ্য সরবরাহের কাজ করতেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী উপজেলার চম্পনগর এলাকায় নুরুল ইসলাম একটি আলিশান ভবন নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি সেখানে ৩২টি দোকানঘর ও প্লট তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এত অল্প সময়ে কীভাবে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, গোদাগাড়ীর নুরুল ইসলাম-এর গত চার বছরের সম্পদ অর্জনের উৎস, জমি ও স্থাপনার মালিকানা, ব্যবসায়িক আয় এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব সম্পদের বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য আয়কর, ভ্যাট ও অন্যান্য রাজস্ব যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট একটি মামলার তথ্য রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী থানার মামলা নং-৬১, জিআর নং-২৭৯/২৩ এবং দায়রা নং-১৪৫৯/২৩-এর উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে নুরুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে মাদক-সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার কোনো অবৈধ আয়ের উৎস নেই।”
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তাদের মতে, সম্পদের উৎস, জমির দলিল, আয়কর রিটার্ন, ব্যবসায়িক নথি এবং রাজস্ব পরিশোধের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত।
সচেতন মহলের অভিমত, যেহেতু একদিকে সম্পদ অর্জন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে এবং অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তাই বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই সবচেয়ে কার্যকর পথ। সরকারি তদন্ত, আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হলে জনমনে থাকা প্রশ্নেরও সুষ্ঠু সমাধান হবে।








