রাজশাহীতে সাংবাদিক হামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং এর প্রতিবাদে আয়োজিত সাংবাদিকদের মানববন্ধন ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে নগরী। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‘রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। তারা হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
হামলার শিকার দুই সংবাদকর্মী হলেন দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট এবং ক্যামেরাম্যান আবির। বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও বড় ধরনের হুমকি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুল মুগনি নীরো, সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান এবং সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানীসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হীরা ও হেলাল প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও এখনও তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
এ সময় রিভার সিটি প্রেসক্লাবের নেতারাও মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা একাত্মতা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (২ আগস্ট) রাজশাহীর শাহমখদুম থানা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট ও ক্যামেরাম্যান আবিরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলায় তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় চিহ্নিত অভিযুক্ত হীরা ও হেলালকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ।








