নানিয়ারচরে বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ উদ্বোধন

রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-মোঃ কামরুল ইসলাম
রাঙামাটির নানিয়ারচরে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবার সরকারি সহায়তা পেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নানিয়ারচর উপজেলায় এই খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার মতো নানিয়ারচর উপজেলাও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। আকস্মিক বন্যায় বহু পরিবারের বসতঘর, কৃষিজমি ও জীবিকার প্রধান উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগের পানি নেমে গেলেও অনেক পরিবার এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।
খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ (মামুন)। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সরকারের এই সহায়তা দুর্গত পরিবারের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত হলে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বাবু দয়াল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই দ্রুত খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার ও জেলা পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নানিয়ারচরে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ঘিলাছড়ি ও বুড়িঘাট ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের হাতে খাদ্যশস্য তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জরুরি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণ, বসতঘর মেরামত এবং জীবিকা পুনর্গঠনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করলে দুর্গত পরিবারগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারের এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে নানিয়ারচরের বন্যাদুর্গত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।








