বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

বিরলে মৎস্য দপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিরলে মৎস্য দপ্তরের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার ৫ নম্বর বিরল ইউনিয়ন এবং ১০ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়নের তুলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। অভিযানে মোট ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল এবং ১০টি কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, অবৈধ জালের কারণে নদী ও খালের দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ায় জলজ সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ জাল অপসারণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলজ সম্পদ সংরক্ষণ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। জেলেদেরও সচেতন করতে বিভিন্ন সময় প্রচারণা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযান শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জব্দ করা সব নিষিদ্ধ জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিরলে মৎস্য দপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা পায় এবং নদী-খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
৪৮ সময় দৃশ্য

বিরলে মৎস্য দপ্তরের অভিযানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

আপডেটের সময় : ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিরলে মৎস্য দপ্তরের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার ৫ নম্বর বিরল ইউনিয়ন এবং ১০ নম্বর রানীপুকুর ইউনিয়নের তুলাই নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। অভিযানে মোট ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল এবং ১০টি কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, অবৈধ জালের কারণে নদী ও খালের দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ায় জলজ সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ জাল অপসারণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলজ সম্পদ সংরক্ষণ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। জেলেদেরও সচেতন করতে বিভিন্ন সময় প্রচারণা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযান শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জব্দ করা সব নিষিদ্ধ জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিরলে মৎস্য দপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা পায় এবং নদী-খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।