বাংলাদেশ , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সর্বাধিক পঠিত

মদনে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ

রাসেল আহমেদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদনে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তারকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা গত ৬ আগস্ট মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জ্যোৎস্না আক্তার গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট তাঁর মা হঠাৎ স্ট্রোক করলে তিনি এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে মাকে দেখতে নেত্রকোনায় যান। পরদিন ৫ আগস্ট দিনভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. শরীফুল ইসলামের মুঠোফোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল।

এরপর ৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক আগের দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যোৎস্না আক্তারের অভিযোগ, একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর তিনি মদন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি মুঠোফোনে জানান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি। পরদিন অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেও তাঁর উপস্থিত হতে সমস্যা হয়। তাঁর দাবি, একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মো. রুজালি মিয়া ও মো. আব্দুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোছা. ইয়াসমিন আক্তারও ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর মতে, একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে এমন ঘটনা কাম্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মদন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মদন থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন করীম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর এ ঘটনায় শিক্ষিকার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি উঠেছে। তবে এটি একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা ঘটনা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য
আপডেটের সময় : ০৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
৩০ সময় দৃশ্য

মদনে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

রাসেল আহমেদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদনে সহকারী শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তারকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা গত ৬ আগস্ট মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জ্যোৎস্না আক্তার গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট তাঁর মা হঠাৎ স্ট্রোক করলে তিনি এক দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে মাকে দেখতে নেত্রকোনায় যান। পরদিন ৫ আগস্ট দিনভর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. শরীফুল ইসলামের মুঠোফোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল।

এরপর ৬ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক আগের দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যোৎস্না আক্তারের অভিযোগ, একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে তিনি বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর তিনি মদন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি মুঠোফোনে জানান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি। পরদিন অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেও তাঁর উপস্থিত হতে সমস্যা হয়। তাঁর দাবি, একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মো. রুজালি মিয়া ও মো. আব্দুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোছা. ইয়াসমিন আক্তারও ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর মতে, একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে এমন ঘটনা কাম্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মদন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মদন থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন করীম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর এ ঘটনায় শিক্ষিকার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি উঠেছে। তবে এটি একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা ঘটনা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।